চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটে জনদুর্ভোগ চরমে: একটি সেতুর অভাবে নিভছে অনেক প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | রাঙ্গুনিয়া
রাঙ্গামাটি, রাজস্থলী ও বান্দরবানের সাথে ব্যবসায়িক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাট। প্রতিদিন এই ফেরিঘাট দিয়ে গড়ে ১ থেকে ১.৫ হাজার ছোট-বড় যানবাহন এবং ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষ পারাপার হয়। তবে রাতের বেলা এই ফেরিঘাটের দৃশ্য কৃত্রিম আলোয় সুন্দর মনে হলেও এর আড়ালে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘশ্বাস। একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে এই পথে যাতায়াতকারী মানুষের ভোগান্তি এখন আকাশচুম্বী।
১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে লাগে ২ ঘণ্টা:
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাত্র ১০ মিনিটের নদী পারাপারের পথটি পাড়ি দিতে বর্তমানে সময় লাগছে এক থেকে দুই ঘণ্টা। ফেরির দীর্ঘ সিরিয়াল এবং যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিদিন শত শত গাড়িকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে অপেক্ষা করতে হয়। এতে কেবল কর্মঘণ্টাই নষ্ট হচ্ছে না, বরং এই অঞ্চলের সামগ্রিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডেও স্থবিরতা নেমে আসছে।
চিকিৎসাসেবার অন্তরায় ও মৃত্যুর ঝুঁকি:
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন কোনো মুমূর্ষু রোগী বা প্রসূতি মাকে এই পথ দিয়ে হাসপাতালে নিতে হয়। স্থানীয়রা ক্ষোভের সাথে জানান, ফেরির জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেক সময় রোগী পথেই প্রাণ হারান। দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজনে শহরে যাওয়ার কোনো বিকল্প পথ না থাকায় এই ফেরিঘাটটি এখন এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক বড় আতঙ্কের নাম।
ব্যবসায়িক ক্ষতি ও স্থবিরতা:
তিন পার্বত্য জেলার ব্যবসায়িক পণ্য পরিবহনের প্রধান রুট হওয়ায় এই ফেরিঘাটের ওপর দিয়ে প্রচুর কাঁচামাল ও কাঠ সরবরাহ করা হয়। সময়মতো ফেরি না পাওয়ায় অনেক সময় পচনশীল পণ্য নষ্ট হয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা:
চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটের এই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা নিরসনে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। স্থানীয় সচেতন নাগরিক এবং ব্যবসায়ীদের দাবি—একটি সেতু এই অঞ্চলের চিত্র পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর শেষ করতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঠেকাতে অবিলম্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত সেতু বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন এই রুটে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ।




