খেলা

সাকার হ্যাটট্রিকে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ইংল্যান্ডের তৃতীয় স্থান অর্জন

 

জুলাই ২০২৬ (বাসস) : বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে শেষ হাসি হেসেছে ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন বুকায়ো সাকা। অন্যদিকে জোড়া গোল করে এমবাপ্পে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠেছেন।

দুই দলই এবারের আসরে বড় প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। কিন্তু সেমিফাইনালে হতাশাজনক পরাজয়ে দুই দলকেই শেষ পর্যন্ত তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে মাঠে নামতে হয়। শেষ চারে ফ্রান্স স্পেনের কাছে ও ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনার কাছে পরাজিত হয়ে বিদায় নেয়।

উভয় দলই বেশ কিছু পরিবর্তন নিয়ে মিয়ামির মাঠে নেমেছিল। বেশ কিছু তারকা কাল শুরুর একাদশে ছিলেন না। এর মধ্যে ইংল্যান্ড বস থমাস টাচেল হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহামকে বদলি বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন। এক নম্বর গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের স্থানে মূল দলে সুযোগ পেয়েছিলেন ডিন হেন্ডারসন। অন্যদিকে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশ্যম মূল একাদশে জায়গা দেননি ব্র্যাডলি বারকোলা ও ওসমানে ডেম্বেলেকে।

এই ম্যাচ দিয়ে দেশ্যম ফ্রান্সের সাথে তার ১৪ বছরের সম্পর্কের ইতি টেনেছেন।

ম্যাচ শুরুর তিন মিনিটের মধ্যে আর্সেনাল মিডফিল্ডার ডিক্লান রাইসের দূরপাল্লার গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ১৮ মিনিটে এজরি কোনসার গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ম্যাচে ফিরে আসার লক্ষ্যে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকা ফ্রান্সের হয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও মাইকেল ওলিসে বিপজ্জনক হয়ে উঠেন।

দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে বুকায়ো সাকা গোল করে ইংল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিলে খেলা একপর্যায়ে ফ্রান্সের জন্য বিব্রতকর রূপ নিতে শুরু করে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সাকা ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন।

বিরতির পর দেশ্যম চারটি পরিবর্তন আনেন। তিনি মাঠে নামান ওসমানে ডেম্বেলে, ডায়োট উপামেকানো, লুকা দিন এবং ব্র্যাডলি বারকোলাকে। এর সুফল তিনি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পান। কিলিয়ান এমবাপ্প টুর্নামেন্টে নিজের নবম গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে যান। এরপর ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। বারকোলা আরেকটি গোল শোধ করলে স্টেডিয়ামে ফরাসি সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়ে।

৬৬ মিনিটে মাইকেল অলিসের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে মোট ২২ গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত হন। এই গোলের ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে এমবাপ্পে মেসির চেয়ে দুই গোল এগিয়ে যান।

সমতায় ফেরার একাধিক সুযোগ নষ্ট করে ফ্রান্স। এরপর ইংল্যান্ড আরও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায়। ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি এলাকায় জেড স্পেন্সকে ফাউল করেন মালো গুস্তো। স্পটকিক থেকে সাকা নির্ভুল শটে বল জালে জড়িয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।

ম্যাচের নাটকীয়তা তখনও বাকি। ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিটে ডেম্বেলে ফ্রান্সের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন। দুই মিনিট পর জুড বেলিংহাম একক নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডকে জয়সূচক গোলটি উপহার দেন। এই গোলের মাধ্যমে বেলিংহাম বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে এক আসরে সাত গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েন।

তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর তাদের সেরা সাফল্য অর্জন করল। তবে সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে হারের তিক্ত স্মৃতি তাদের সঙ্গেই থেকে যাবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button