ক্ষুদে ফুটবলারদের প্রাণোচ্ছ্বাসে মুখর চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম

সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দল নিয়ে জেলা স্টেডিয়ামে চলছে ‘শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’।
প্রায় ১ হাজার স্কুল পড়ুয়া ফুটবলারকে নিয়ে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে এক মাস ধরেই শিশু-কিশোরদের প্রাণোচ্ছ্বাসে মুখর জেলা স্টেডিয়াম ও এর আশপাশের এলাকা।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ — স্লোগানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে লাখো শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে দেশব্যাপী ক্রীড়াঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস’।
সেই সফলতার পথ ধরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের স্কুলগুলোকে নিয়ে এই টুর্নামেন্ট-এর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি, চট্টগ্রাম মহানগর শাখা।
গত ১৪ আগস্ট অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন। প্রতিদিন সকাল-বিকাল খেলা চলাকালীন অংশগ্রহণকারী দলের খেলোয়াড়, তাদের সহপাঠী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের পদচারণায় উৎসবমুখর হয়ে উঠে জেলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ।
আজ টুর্নামেন্টের ফাইনাল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
তিনি বাসসকে বলেন, ‘আমাদের নতুন প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুদৃঢ় ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, মহানগর বিএনপি’র এই আয়োজনও তারই অংশ। আমরা বিশ্বাস করি, এই ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের নতুন প্রজন্ম মাদক-সন্ত্রাস কিংবা বিপথগামী হওয়া থেকে মুক্ত থাকবে। এতে পরিবার-সমাজ ও রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণার পর থেকে নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে। ৬০-৬৫টি স্কুল এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও বাছাই করে ৪৮টি স্কুলের টিমকে সুযোগ দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এম পি ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সার্বিক সহযোগিতায় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলের সকল খেলোয়াড়কে জার্সি ও বুটসহ খেলার সরঞ্জাম প্রদান এবং ভেন্যুতে যাতায়াতের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
খেলায় চ্যাম্পিয়ন, রানার্স আপ ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলকে সুদৃশ্য ট্রফিসহ যথাক্রমে দুই লক্ষ, এক লক্ষ ও পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রাইজ মানি প্রদান করা হবে। খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে প্রতিটি ম্যাচের সেরা ও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের জন্য রাখা হয়েছে ক্রেস্টসহ আকর্ষণীয় প্রাইজমানি।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ বাসসকে বলেন, স্কুল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনা এবং দেশ পরিচালনায় বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রাণপুরুষ, সফল রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুশাসনের মূলমন্ত্র নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা দেশের দুই নক্ষত্রের জীবন ও শাসনকালের সফলতাগুলো জানতে আগ্রহী হবে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ জন্ম নেবে।’
এরশাদ উল্লাহ বলেন, টুর্নামেন্ট সফল করতে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে প্রধান উপদেষ্টা, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনকে প্রধান পৃষ্ঠপোষক, নগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নিয়াজ মোহাম্মদ খানকে আহবায়ক ও নগর বিএনপির সদস্য মশিউল আলম স্বপনকে সদস্য সচিব করে পরিচালনা কমিটি ও নয়টি উপ- কমিটি গঠন করা হয়। তারা বেশ কয়েকটি সমন্বয় ও প্রস্তুতি সভা ও অংশগ্রহণকারী স্কুল দলের প্রধান শিক্ষক ও প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা সম্পন্ন করেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, এই প্রজন্ম খেলাধুলাবিমুখ, এরা মূলত সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে অনলাইন গেম বা এটা-সেটাতে আসক্ত। আবার অনেক উঠতি বয়সের ছাত্র, এমনকি ছাত্রীরাও নেশার দিকে চলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় পড়ালেখার পাশাপাশি আমাদের সন্তানরা যেন নিজেদের শারীরিক গঠন ঠিক রাখে, বিপথে না যায় সে লক্ষ্যেই এই আয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যে ঐতিহ্য ছিল পূর্বে, আমাদের সময়ে যেটা আমরা দেখছি যে পড়ালেখার পরে আমরা খেলতে যেতাম। সিজনাল যখন যে খেলাধুলা হয়, সেটাতে যেতাম। এটা যেন আবার এই প্রজন্মের মধ্যে ফিরে আসে— সেটাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’
নাজিমুর রহমান বলেন, বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে ঘোষণা— ‘ক্রীড়া যদি হয় পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’, সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবকিছুকে বিবেচনায় রেখেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। চট্টগ্রামে ইতোমধ্যেই স্কুল নিয়ে এত বড় কোনো টুর্নামেন্ট আর হয়নি এবং আমরা চাই যেন এই ধারা অব্যাহত থাকে।
টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক, সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলেন, ‘শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-কে ঘিরে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ক্ষুদে ফুটবলার, তাদের শিক্ষক ও অভিভাবকদের যে স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখেছি তা সত্যিই গর্ব করার মতো বিষয়।
তিনি আরও বলেন, এই প্রজন্ম আবারও খেলায় ফিরছে, পুরো চট্টগ্রামে এই টুর্নামেন্টের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে, ঘরে ঘরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দর্শন পৌঁছাতে পেরেছি।
নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, আমরা আশা করি এই টুর্নামেন্টের সফল আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের যে অবদান এবং ক্রীড়াঙ্গনে অভূতপূর্ব উন্নয়নের কান্ডারি বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ও কর্মময় জীবন সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা অবগত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রীড়াঙ্গনকে উজ্জীবিত করে নতুন প্রজন্মকে সুস্থ-সাবলীল মানুষ হিসেবে গড়ার যে স্বপ্ন দেখছেন, তাদের নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখছেন এই ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে তার বাস্তবরূপ আমরা সামনে দেখতে পাবো, ইনশাআল্লাহ।




