বিশেষ খবররাজনীতি

প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেবে সরকার : ড. তিতুমীর

 

সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): দেশে দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিসেবা সহজ করতে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দেবে সরকার। এ লক্ষ্যে কর নীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডার হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তি সংলাপ’-এর সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা যেন নাগরিক সেবার মান বাড়ায় এবং দেশের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং পরবর্তী করণীয় দ্রুত নির্ধারণ করতে তিনি অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

‘বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রযুক্তি, মেধা ও অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সঞ্চালনা করেন কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল। এতে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধিদলে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সংলাপে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের সহকারী অধ্যাপক ড. শরিফা সুলতানা, উবারের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং এনভিডিয়ার গবেষক ড. মোস্তফা পাটোয়ারী।

এ ছাড়া গ্লোবালফাউন্ড্রিজের ড. মাহবুব রাশেদ সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা ও সার্বিক বিকাশ নিয়ে বক্তব্য দেন।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডেভিসের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাইফ ইসলাম মেধা, প্রযুক্তি ও পুঁজি বিষয়ে প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন।

প্যানেলে অংশ নেন উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ক্রিডো সেমিকন্ডাক্টরের ড. শতিল হক, এক্সোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. ইউসুফ হক, মেডট্রনিকের সাবেক প্রধান নির্বাহী ও ইন্টেলের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান ড. ওমর ইশরাক, উল্কাসেমির সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান এবং ক্লাউডএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বদরুল সারওয়ার।

আলোচকেরা গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্প খাতের অংশীদারত্ব এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, গবেষণা, শিক্ষা, স্টার্টআপ ও শিল্প খাতের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলে প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার। বিএইআর সামিটসহ সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত মেধাকে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও দক্ষ কর্মসংস্থানে রূপান্তর করতে হবে।

ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিশ্ব প্রযুক্তি শিল্পে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের সাফল্যের প্রশংসা করেন। তাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ ও সহযোগিতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কূটনীতিকে পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ও উদ্ভাবন ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে। এ ধরনের সহযোগিতা কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এ সময়ে শিশুদের ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি মৌলিক শিক্ষায়ও দক্ষ করে তুলতে হবে।

তিনি শিক্ষকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ও এআইয়ের সঠিক ব্যবহার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুসহ সব শিক্ষার্থীর কাছে মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। মূল শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োগের আগে নতুন শিক্ষাপদ্ধতিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল প্রতিনিধিদল ও আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে নিয়ে এসব বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button