শীর্ষ নিউজ

সেকান্দারকে আটক ঘিরে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, পুলিশের দাবি বন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত

বন মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি সেকান্দার; নির্যাতন ও টাকা নেওয়ার অভিযোগ পরিবারের

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১৪ নম্বর রাজানগর ইউনিয়নের সোনারগাঁও গ্রামের প্রবাসী সেকান্দারকে আটকের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানি, মারধর, নির্যাতন ও ব্যক্তিগত মালামাল নেওয়ার অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তবে পুলিশ বলছে, সেকান্দার একটি বন মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং তাকে আইনগত প্রক্রিয়ায় আটক করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, বন মামলায় সেকান্দারকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। আটকের সময় তার কাছ থেকে প্রায় ১৩ হাজার টাকা, লাইসেন্স, বিদেশি কার্ড, জুতা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে পরিবার।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব সামগ্রী পুলিশ জব্দ করে থাকলে তার যথাযথ জব্দতালিকা করা হয়েছে কি না এবং সেগুলো মামলার আলামত হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্যাতনের অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করেছে পরিবার।

অভিযোগের বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, পিপিএম বলেন, টহল পুলিশকে দেখে সেকান্দার পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে ধাওয়া করে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার কথা জানা যায়। বন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় তাকে আইনগত প্রক্রিয়ায় থানায় নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

সেকান্দারের কাছ থেকে টাকা ও ব্যক্তিগত সামগ্রী নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছে পুলিশ। এএসপি জানান, সেকান্দারের কাছে থাকা একটি মোবাইল ফোন থানায় জমা করা হয়েছিল। তবে তার কাছ থেকে মানিব্যাগ বা নগদ টাকা নেওয়া হয়েছে—এমন কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই।

সেকান্দারকে মারধর বা নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে এএসপি বেলায়েত হোসেন বলেন, সেকান্দারকে মারধর বা নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হলে অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এসআই মাহাফুজের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে মামলা বা মাদক মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে হয়রানি এবং অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন। তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সেকান্দারকে আটকের ঘটনায় পরিবার ও পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় সংশ্লিষ্ট বন মামলার নথি, আদালতের রায়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, আটকের রেকর্ড এবং কোনো মালামাল জব্দ করা হয়ে থাকলে তার জব্দতালিকা যাচাই করা প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর দাবি, পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি বন মামলায় সেকান্দারের সাজা ও আটকের আইনগত প্রক্রিয়াও সংশ্লিষ্ট নথির মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button