অর্থ ও বাণিজ্যবিশেষ খবর

আইএমএফের ঋণ নিয়ে আলোচনা চলছে, পারস্পরিক সমঝোতায় সব চ্যালেঞ্জের সমাধান সম্ভব : অর্থমন্ত্রী

 

অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস) : আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচি ও সংস্কার শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কার পরিকল্পনার মৌলিক বিষয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য নেই। কিছু ক্ষেত্রে সংস্কার বাস্তবায়নের সময় ও পর্যায় নিয়ে আলোচনা হলেও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সব চ্যালেঞ্জের সমাধান সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেল ও গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। এ চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের নিয়মিত সহায়তার পাশাপাশি অতিরিক্ত ঋণ সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী।

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির সংস্কারের শর্ত সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে। একসঙ্গে অনেকগুলো সংস্কার বাস্তবায়নের চাপ না দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন ও মূলধন জোগানের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ থেকে আট বছর ব্যাংকিং খাতে প্রতিবছর প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য সরকার প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছে। তবে শুধু সরকারি অর্থায়নে এ চাহিদা পূরণ করা কঠিন। এ কারণে আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠনে সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক নিয়ে আমানতকারীদের মধ্যে আগে যে উদ্বেগ ছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে। বরং ব্যাংকে আমানত ফিরছে এবং নিট আমানত বাড়ছে। পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আবার বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

জ্বালানি খাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তেল ও গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হলে ভর্তুকির প্রয়োজনও তৈরি হবে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বব্যাংক সহায়তা দিতে পারে। অতীতের অর্থনৈতিক ঘাটতি ও চাপ কাটিয়ে উঠতে আগামী দুই থেকে তিন বছরের জন্য একটি আর্থিক সুরক্ষাবলয় তৈরিতেও সংস্থাটির সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়ে সরকার আশাবাদী।

রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের সুফল পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আয়কর আদায়ে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কর-জিডিপি অনুপাতও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button